
ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব স্মারক (Strategic Partnership Memorandum of Understanding – SPMoU) স্বাক্ষর করেছে। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করা এবং মানবিক জরুরি পরিস্থিতিতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক (FDMN) এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে একটি তিন বছর মেয়াদি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এবং আইআরসি-এর অ্যাওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুলিও ই. র্যাঙ্ক রাইট এ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, এবং আইআরসি এশিয়ার ডেপুটি রিজিওনাল ডিরেক্টর হাসিনা রহমান স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে জলবায়ু ও মানবিক চ্যালেঞ্জ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে, এই সমঝোতা স্মারক জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক (FDMN) এবং বাংলাদেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠী উভয়ের জন্য সহনশীলতা বৃদ্ধি ও টেকসই সমাধানকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টাকে সহায়তা করবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কারিগরি সহায়তা, নীতিগত আলোচনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা শক্তিশালীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব বলেন, এই সমঝোতা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের দুর্যোগ প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করবে। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বকে আরও সুসংহত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা অর্জনের লক্ষ্য বাস্তবায়নেও এই অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই অংশীদারিত্বের আওতায় আইআরসি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতি উন্নয়নে সহায়তা এবং কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের জন্য। পাশাপাশি, এই অংশীদারিত্ব দুর্যোগ-সহনশীল ও প্রস্তুত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে উৎসাহিত করা, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সমর্থন করা, জ্ঞান বিনিময় বৃদ্ধি করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সম্পদ সংগ্রহের সক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।



পাঠকের মতামত